রাজনীতি ডেস্ক
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জমিজমাসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একটি রাজনৈতিক দলের অস্থায়ী কার্যালয়, স্থানীয়দের বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেনের মালিকানাধীন ২১ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশার সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে ওই জমির একাংশ দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিরোধের কোনো স্থায়ী নিষ্পত্তি হয়নি। বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হলেও চেয়ারম্যান পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিতর্কিত ওই স্থাপনায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
শনিবার বিকেলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে চরপাড়া বাজার এলাকায় অবস্থিত বিএনপির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ছিরু মাতুব্বরের সারের দোকান, জাহিদুল ইসলামের বসতবাড়ি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় নেতা এনামুল চৌধুরীর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়, যা রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
হামলায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। জমির মালিক বিল্লাল হোসেন মোল্যা অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের রায় তার পক্ষে থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল করে রেখেছে এবং উল্টো হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, হামলার শিকার ব্যবসায়ী ছিরু মাতুব্বর জানান, অতর্কিত এই হামলায় তার দোকানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মুশা বলেন, “আমার বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে তালা লাগানো হয়েছে এবং আমার সমর্থকদের উসকানি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়টি ভিত্তিহীন। প্রতিপক্ষরাই ভাঙচুর চালিয়ে আমাদের ওপর দোষারোপ করার চেষ্টা করছে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জমি বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত আইনি সমাধান না হলে এ নিয়ে পুনরায় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।