জাতীয় ডেস্ক
সৌদি আরব নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমন করছেন। ইতোমধ্যে গত শুক্রবার রাত থেকে হজে গমনের আনুষ্ঠানিক ফ্লাইট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের যাত্রীদের মধ্যে সিংহভাগই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা এবং বয়সগত দিক থেকে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট হজযাত্রীদের মধ্যে পুরুষ ৬৫ শতাংশ এবং নারী ৩৫ শতাংশ। ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন সৌদি আরব যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ফ্লাইট কার্যক্রম আগামী কয়েক সপ্তাহ ব্যাপী অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা বিভাগ থেকে সর্বাধিক ২৮ হাজার ৩৭২ জন (৩৬.৩৭ শতাংশ) হজ পালন করবেন। এই বিভাগে পুরুষ ও নারীর হার যথাক্রমে ৬৩ ও ৩৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৫ হাজার ৮৭৭ জন (২০.২ শতাংশ) হজে যাচ্ছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী থেকে ১০ হাজার ৭৭৪ জন (১৩.১৩ শতাংশ), রংপুর থেকে ৬ হাজার ৬৩৯ জন (৮.০৮ শতাংশ) এবং খুলনা বিভাগ থেকে ৫ হাজার ৪৬৮ জন (৭.০৭ শতাংশ) যাত্রী নিবন্ধিত হয়েছেন। তুলনামূলক কম যাত্রী যাচ্ছেন সিলেট, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ থেকে। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৭১৪ জন (৩.০৩ শতাংশ) হজযাত্রী অংশ নিচ্ছেন।
বয়স ভিত্তিক পরিসংখ্যানে লক্ষ্য করা গেছে, ৩২.৬৮ শতাংশ হজযাত্রীর বয়স ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৪০ থেকে ৫০ বছর এবং ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সিদের হার সমানভাবে ২৪.৭৫ শতাংশ করে। তরুণ বা মধ্যবয়সি অর্থাৎ ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি হজযাত্রীর হার ১১.৮৮ শতাংশ এবং সত্তরোর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিকদের হার ৫.৯৪ শতাংশ।
পেশাগত বৈচিত্র্যের দিক থেকে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যা মোট হজযাত্রীর ৪০ শতাংশ। এর পরেই রয়েছেন গৃহিণীরা, যাদের হার ৩১ শতাংশ। অন্যান্য পেশার মধ্যে বেসরকারি চাকরিজীবী ১০ শতাংশ, কৃষক ৫ শতাংশ এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন ৩ শতাংশ। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের হার ১ শতাংশ করে রেকর্ড করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হজযাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে হাজিদের সহায়তায় বিশেষ ডেস্ক ও স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে। সৌদি আরবে আবাসন, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি দল এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে হাজিদের সুষ্ঠুভাবে সৌদি আরব পৌঁছানোই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য।