বিনোদন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হিসেবে দলের প্রতিনিধিত্ব করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার পর্বে তিনি অংশ নেন।
সাক্ষাৎকার গ্রহণ শেষে সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে চমক তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায়ে কাজ করার লক্ষ্যেই আমি একটি সুনির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম খুঁজছিলাম। আমার মনে হয়েছে বিএনপির আদর্শের সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করলে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সেই উদ্দেশ্য থেকেই এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা।”
সাক্ষাৎকার বোর্ডের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অভিনেত্রী জানান, দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ তাকে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেছেন। তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন। এর আগে গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের নতুন পথচলার কথা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে শোবিজ জগতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তারকা সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। রুকাইয়া জাহান চমকের আগে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, রিজিয়া পারভীন এবং বেবী নাজনীনও দলটির মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার এই প্রবণতা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
রুকাইয়া জাহান চমক ২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত টেলিভিশন নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। পেশাদার অভিনয় জীবন ছাড়িয়ে এখন তিনি সংসদীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন। বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে দলের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।