বিশেষ প্রতিবেদক
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ শনিবার সকালে কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, আগামী বছরগুলোতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে এবং মেধার মূল্যায়নে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং প্রতি বছর নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
বৃত্তি পরীক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও যুগোপযোগী ও ফলপ্রসূ করতে সামগ্রিক নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আওতায় কতজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং বৃত্তির অর্থের পরিমাণ কতটা বৃদ্ধি করা সম্ভব, তা নিয়ে নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের প্রতি অধিকতর আগ্রহী করে তোলার মাধ্যম হিসেবে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি অভিহিত করেন।
বৃত্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোচিং বাণিজ্যের প্রসার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার যে কোনো ধরনের কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে বেশ কিছু নতুন পলিসি বা উদ্ভাবনী পদ্ধতি চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুতই এগুলোর পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক বৃত্তি কেন্দ্রিক কোচিং নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসন এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারের ‘দৃষ্টিনন্দন প্রজেক্ট’ এবং ‘পিইডিপি-৫’ (চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি) প্রকল্পের আওতায় স্কুলগুলোতে ব্যাপক সংস্কার কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা বা ওয়াশরুম স্থাপন এবং আসবাবপত্র আধুনিকায়নসহ স্থাপত্য নকশায় পরিবর্তন আনা হবে।
পরীক্ষার সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন। শিক্ষার্থীরা সঠিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে কিনা এবং কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটছে কিনা, তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে বিভিন্ন কেন্দ্রের চিত্র ইতিবাচক ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কেন্দ্র পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং ঝরে পড়ার হার হ্রাস পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।