অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আয়োজিত ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’-তে যোগ দিতে সেনেগাল সফরে গেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ শনিবার তিনি সেনেগালের রাজধানী ডাকারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। আগামী ১৯ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম’ বর্তমানে আফ্রিকা মহাদেশসহ বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বীকৃত। সেনেগাল সরকারের উদ্যোগে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সহায়তায় আয়োজিত এই ফোরামে প্রতি বছর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, শীর্ষ নীতি-নির্ধারক, প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা একত্রিত হন। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট জরুরি বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে কার্যকর সমাধান ও অভিন্ন কৌশল নির্ধারণই এই ফোরামের মূল লক্ষ্য।
এ বছরের সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ দমন, সমুদ্র-সীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ মোকাবিলার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ডাকার ফোরাম মূলত আফ্রিকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও এর প্রভাব ও আলোচনা এখন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিস্তৃত। আন্তর্জাতিক অপরাধ সিন্ডিকেট দমন এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সংলাপ জোরদার করা এই আয়োজনের অন্যতম মূল এজেন্ডা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ফোরামের মূল অধিবেশনগুলোতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও পার্শ্ব-আলোচনায় (সাইডলাইন মিটিং) অংশ নেবেন। এসব বৈঠকে তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা তুলে ধরবেন। এছাড়া বহুপাক্ষিকতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার কথা রয়েছে তাঁর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র-সম্পদনির্ভর অর্থনীতি এবং জলবায়ু অভিযোজন বিষয়ে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে এ ধরনের নিরাপত্তা সংলাপে অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফর শেষে এবং ফোরামের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আগামী ২৪ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি সেনেগালের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোতে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়াই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।