1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ, ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক চালুর লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাপ, ইউরো–পাউন্ড শক্তিশালী অবস্থানে হজ ফ্লাইট শুরু মধ্যরাতে, প্রথম দিনে ১৪টি ফ্লাইটের সূচি গুলশানে অবৈধ সিসা বারে অভিযান, বিপুল পরিমাণ সিসা ও হুক্কা জব্দ, ম্যানেজার আটক হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী রহনপুর–ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি, মন্ত্রীর সঙ্গে এমপিদের সাক্ষাৎ প্রথম হজ ফ্লাইট আজ রাতে, প্রস্তুতি পর্যালোচনায় হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন বাণিজ্য সচিবের মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর গভীর শোক চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

বিগত সরকারের আমলে নিয়োগকৃত বিপুলসংখ্যক সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়ে বিতর্ক: পর্যালোচনায় বর্তমান মন্ত্রণালয়

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

আইন আদালত ডেস্ক

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট, নিম্ন আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগপ্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক সরকারি আইনজীবীর নিয়োগ ও কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দায়িত্ব পালনকালে এসব নিয়োগে অতিরিক্ত সংখ্যাধিক্য, অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় আইনি অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশ এসব নিয়োগকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থের অপচয় ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য বাধাস্বরূপ বলে মনে করছেন। বর্তমান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের তথ্যমতে, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তা নিয়োগের নজির নেই। সংবিধানে একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ডিএজি এবং এএজি পদের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারিত নেই। এই আইনি শূন্যতার সুযোগে বিপুলসংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। ইতোমধ্যে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আবুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত আইন কর্মকর্তাদের কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতির স্থান হবে না এবং শিগগিরই সেখানে শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

নিম্ন আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) নিয়োগেও ব্যাপক অসামঞ্জস্যের তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের অক্টোবরে সারা দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার পিপি ও জিপি নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কেবল ঢাকা জেলার জন্যই ৬৭০ জন আইন কর্মকর্তার নাম প্রজ্ঞাপনে প্রকাশ করা হয়। আদালত সূত্রে জানা যায়, সাধারণত ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে চারজন এবং জেলা দায়রা জজ আদালতে নয়জন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এই দুই আদালতে যথাক্রমে ৮৪ জন এবং ৬১ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। সারা দেশে এমন ঢালাও নিয়োগের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জামালপুরে দুই বছর আগে মৃত্যুবরণকারী এক ব্যক্তিকে অতিরিক্ত জিপি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সে সময় এসব নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন আইনজীবী সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশও করেছিল।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমেও রদবদল এনেছে বর্তমান সরকার। বিগত ৫ আগস্টের পর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর নিয়োগ বাতিল করে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৯ মার্চ মার্জিনা রায়হান ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিনকে নতুন প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক আসামিকে জামিন পাইয়ে দেওয়ার চুক্তিতে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অডিও ফাঁসের ঘটনায় প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতে প্রসিকিউশন টিমে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলমান রয়েছে।

সারা দেশে দুর্নীতি দমন সম্পর্কিত মামলা পরিচালনার জন্য ৩৭টি বিশেষ জজ আদালত রয়েছে, যার ১৩টি ঢাকায় অবস্থিত। এসব আদালতে বিগত সরকারের আমলে নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বিষয়েও আইনজীবীদের আপত্তি রয়েছে। আইন অঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিতর্কিত সব নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব পদে রদবদল না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যক্রমে মন্ত্রণালয় ব্যস্ত থাকায় নতুন আইনজীবী নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি অঙ্গনের এই বিশৃঙ্খলা দূর করে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে কাজ করে যাচ্ছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026