1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ, ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক চালুর লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাপ, ইউরো–পাউন্ড শক্তিশালী অবস্থানে হজ ফ্লাইট শুরু মধ্যরাতে, প্রথম দিনে ১৪টি ফ্লাইটের সূচি গুলশানে অবৈধ সিসা বারে অভিযান, বিপুল পরিমাণ সিসা ও হুক্কা জব্দ, ম্যানেজার আটক হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী রহনপুর–ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি, মন্ত্রীর সঙ্গে এমপিদের সাক্ষাৎ প্রথম হজ ফ্লাইট আজ রাতে, প্রস্তুতি পর্যালোচনায় হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন বাণিজ্য সচিবের মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর গভীর শোক চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান আর নেই। শুক্রবার সকাল ৬টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশ সচিবালয়সহ জনপ্রশাসন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিনিয়র তথ্য অফিসার) মো. কামাল হোসেন শুক্রবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা যায়, শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে গত শনিবার তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। তবে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মাহবুবুর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। তিনি ১৯৯৪ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) কাস্টমস ও এক্সাইজ ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সিভিল সার্ভিসের একজন চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সর্বমহলে প্রশংসিত ছিলেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি দেশের বিভিন্ন কাস্টম হাউস, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ডেপুটি কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার এবং অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে তিনি দেশের রাজস্ব আহরণ ও শুল্ক নীতি প্রণয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তাঁর সময়কালে কাস্টমস প্রশাসনে অটোমেশন ও আধুনিকায়নের বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, যা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধিতে এবং ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে তিনি সরকারের সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে মাহবুবুর রহমান দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আমদানি-রপ্তানি নীতি বাস্তবায়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার ব্যবস্থাপনার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদারকি করছিলেন। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, সরবরাহ চেইনের সংকট এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সরকারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করা, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রেও তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সাময়িক শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শুক্রবার সকালে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক শোকবার্তায় মন্ত্রী তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মীর স্মৃতিচারণ করেন। শোকবার্তায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মাহবুবুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন অত্যন্ত দক্ষ, সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা। তাঁর পেশাদারিত্ব, দায়িত্ববোধ ও সততা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। দেশের বাণিজ্য খাতকে এগিয়ে নিতে তাঁর যে মেধা ও শ্রম, তা মন্ত্রণালয় চিরকাল স্মরণ রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মাহবুবুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান প্রশাসকের অকাল মৃত্যুতে দেশ ও জাতির যে ক্ষতি হলো, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। এই কঠিন সময়ে পরিবার যেন শোক সইবার শক্তি পায়, সে প্রার্থনাও করেন তিনি।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের প্রথম জানাজা সরকারি আনুষ্ঠানিকতা মেনে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করার কথা রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে হাসপাতালে ছুটে গেছেন এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ ও দেশপ্রেমিক সরকারি কর্মকর্তার বিদায়ে পুরো প্রশাসনে এখন এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026