1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ, ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক চালুর লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাপ, ইউরো–পাউন্ড শক্তিশালী অবস্থানে হজ ফ্লাইট শুরু মধ্যরাতে, প্রথম দিনে ১৪টি ফ্লাইটের সূচি গুলশানে অবৈধ সিসা বারে অভিযান, বিপুল পরিমাণ সিসা ও হুক্কা জব্দ, ম্যানেজার আটক হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: বিমানমন্ত্রী রহনপুর–ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি, মন্ত্রীর সঙ্গে এমপিদের সাক্ষাৎ প্রথম হজ ফ্লাইট আজ রাতে, প্রস্তুতি পর্যালোচনায় হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন বাণিজ্য সচিবের মৃত্যুতে বাণিজ্যমন্ত্রীর গভীর শোক চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের মৃত্যু

ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ, ২০২৯ সালে পরীক্ষামূলক চালুর লক্ষ্য

রিপোর্টার
  • আপডেট : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২ বার দেখা হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির পরিশোধন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। আগামী মাসে প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং ২০২৯ সালে নতুন ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দৃশ্যমান পর্যায়ে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন ইউনিট চালু হলে দেশে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের জ্বালানি তেল আমদানির বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। নতুন ইউনিট চালু হলে বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে তা দেশে পরিশোধনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা এবং আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল। এই পরিশোধিত জ্বালানির বড় অংশ দেশীয় চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে, যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর করে রেখেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুটি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানান, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতার প্রভাব মার্চ ও এপ্রিল মাসে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা পড়েছে। তবে তিনি বলেন, এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর প্রায় সব দেশই একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে পরিশোধিত জ্বালানির মজুত পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে জেট ফুয়েলের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় সপ্তাহের সমপরিমাণ মজুত বিদ্যমান রয়েছে। এপ্রিল ও মে মাসের চাহিদা পূরণের সক্ষমতা সরকারের রয়েছে এবং জুন মাসের সরবরাহ পরিকল্পনাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শরীফ হাসনাত পরিদর্শনকালে জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে এবং দুটি ইউনিট সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। তবে পেট্রল ও বিটুমিন উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত আছে। তিনি আরও জানান, চলতি মাসে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেলবাহী একটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা শোধন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনকালে জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হতে পারে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026