ধর্ম ডেস্ক
আজ শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে বাংলাদেশে চলতি বছরের হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। প্রথম হজ ফ্লাইটটি রাত ১২টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করবে। প্রথম ফ্লাইটে ৪১৯ জন হজযাত্রী অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত হজ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে প্রথম দিনেই মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রী সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা গন্তব্যে যাত্রা করবেন। হজযাত্রী পরিবহনের পুরো কার্যক্রম চলতি মৌসুমে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে।
হজযাত্রীদের প্রাক-প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে শেষ মুহূর্তের কার্যক্রম চলছে। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা যাচাই, লাগেজ প্রস্তুত, ব্রিফিংসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজারেরও বেশি মুসল্লি হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজযাত্রী যাচ্ছেন। এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীর পরিবহন ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বছর মোট ২০৭টি হজ ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এসব ফ্লাইটের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সব নিবন্ধিত হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছাবেন। সর্বশেষ হজ ফ্লাইট ২১ মে ছাড়ার কথা রয়েছে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম ৩০ মে থেকে শুরু হবে।
হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, ইমিগ্রেশন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় রেখে পুরো প্রক্রিয়া সাজানো হয়েছে। হজ মৌসুমে বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং যাত্রীসেবার জন্য আলাদা সহায়তা ডেস্ক চালু রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী পরিবহন প্রতিবছরই একটি বৃহৎ ও জটিল ব্যবস্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এতে একদিকে যেমন ধর্মীয় আবেগ ও আনুষ্ঠানিকতা জড়িত, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং বিমান চলাচল ব্যবস্থার সুষ্ঠু সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে ওঠে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রতিবছরই আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকে।
চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সময়মতো বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নির্দেশনা অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দর ও হজ ক্যাম্প এলাকায় নজরদারি ও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।