ধর্ম ডেস্ক
২০২৬ সালের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট আজ রাতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। হজযাত্রা শুরুকে সামনে রেখে রাজধানীর আশকোনায় অবস্থিত হজক্যাম্পে গতকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হজযাত্রীদের সমাগম শুরু হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হজক্যাম্প আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়েকোবাদ।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হজ ফ্লাইট উদ্বোধনের সার্বিক প্রস্তুতি, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, আবাসন, খাদ্যব্যবস্থা এবং অন্যান্য সহায়ক সেবার অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী হজক্যাম্পের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
ধর্মমন্ত্রী হজযাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের প্রস্তুতি, যাত্রাপথের ব্যবস্থা, থাকা-খাওয়ার মান ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার বিষয়ে খোঁজ নেন। অনেক হজযাত্রী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন, তাদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে জানতে চান তিনি। পাশাপাশি ক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এ সময় মন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, হজযাত্রীরা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী এবং তাদের সেবা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তাদের যাত্রাপথে কোনো ধরনের ভোগান্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেন তিনি। ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন ও আবাসনের মতো বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। যাত্রাপথ থেকে শুরু করে সৌদি আরবে অবস্থানকাল পর্যন্ত সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লি হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান। এ প্রক্রিয়ায় বিমান পরিচালনা, ভিসা কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রশিক্ষণসহ নানা ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। এসব কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে হজক্যাম্পে যাত্রীদের অস্থায়ী অবস্থান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হয়। এ ক্ষেত্রে ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা, সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় সেবার মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ধর্মমন্ত্রী রাত পর্যন্ত হজক্যাম্পে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হজ মৌসুমের শুরুতে এই ধরনের পরিদর্শন ব্যবস্থাপনায় গতি আনা এবং সম্ভাব্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে।