বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বর্তমানে নিয়োগের ৯৩ শতাংশই মেধার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। তিনি বলেন, বিদ্যমান সরকারি নিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত কোটা কাঠামো অনুসরণ করে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। সংসদে তিনি সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বণ্টন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার হালনাগাদ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ পদ পূরণ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট ৭ শতাংশ পদ নির্ধারিত কোটা ব্যবস্থার আওতায় বণ্টন করা হয়। এর মধ্যে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকদের জন্য ১ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত রয়েছে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহল বলছে, নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক ও দক্ষতাভিত্তিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে কোটা কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত কাঠামোতে মেধাভিত্তিক নিয়োগের হার পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর ফলে সরকারি চাকরিতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তুলনামূলকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচনের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও নীতিগতভাবে বজায় রাখা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত কোটা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার কাঠামো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যালোচনা করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংবিধান ও নীতিমালার আলোকে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও সরকারের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে উত্থাপিত এই তথ্য সরকারি চাকরির নিয়োগ কাঠামো সম্পর্কে জনমনে বিদ্যমান ধারণা আরও পরিষ্কার করবে। বিশেষ করে মেধাভিত্তিক নিয়োগের উচ্চ হার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে মেধা ও কোটা ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ—উভয় বিষয়ই নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।