1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডে বরাদ্দ বাড়ছে, এক বছরে সুবিধা পাবেন ৫০ লাখ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে অর্থমন্ত্রীর তাগিদ সমাজ সংস্কারে দেশপ্রেমিকদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর জাতীয়তাবাদে সব জাতি-গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনা আন্তর্জাতিক যৌথ অভিযানে আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত ব্রাজিল-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে উপদেষ্টা পর্যায়ে মাসিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হরমুজ প্রণালির খসড়া প্রস্তাবে চীনের তীব্র বিরোধিতা, ভেটোর আশঙ্কা ইসরায়েলে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা হ্রাস: সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিরোধী জোট মে মাসে দেশে আসছে সাড়ে ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল, মজুত পর্যাপ্ত

পদ্মা অববাহিকায় মরুময়তা রোধে ২০৩৩ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

রিপোর্টার
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ কৃষিভিত্তিক অঞ্চলকে মরুময়তা থেকে রক্ষা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, প্রকল্পটি ২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে এর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদন টেকসই করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই অঞ্চলগুলো দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং সেখানে আনুমানিক সাড়ে ৬ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি, নদীর প্রবাহ হ্রাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনে ঝুঁকি—এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত।

মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রকল্পটির ধারণা নতুন নয় বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘ সময়ের। তিনি বলেন, ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একাধিক সমীক্ষা পরিচালিত হয়েছে। ওই সময়ে মোট চারটি পৃথক সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে প্রাথমিক মূল্যায়ন করা হয়।

পরবর্তীতে ২০০২ সালে একটি প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০০৪ সালে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়। ওই সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদনে স্থিতিশীলতা আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিবেশগত প্রভাব, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মত দেন।

সরকারি সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পটি অনুমোদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে রয়েছে এবং পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়নের পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের বৃহৎ একটি অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026