বাংলাদেশ ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর এবং আপসহীন। তিনি জানান, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠপর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুধবার বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধে জড়িত থাকলে নিজ দলের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না।
মন্ত্রী বলেন, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড সরকার সহ্য করবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে এই সরকারের মূল লক্ষ্য উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করা। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে এবং ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা হবে।
পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি অনেকাংশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জেলার বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। মন্ত্রী এসব বিষয় মনোযোগসহকারে শোনেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভা শেষে মন্ত্রী বান্দরবান জেলা সদরের রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মৈত্রী পানি বর্ষণ (জলকেলি) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বহুমাত্রিক সংস্কৃতি দেশের সামগ্রিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বৈচিত্র্য রক্ষা ও লালন করার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।