আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে বিনামূল্যে অস্ত্র সরবরাহ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, কিয়েভকে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন থেকে মার্কিন জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে সরাসরি সহায়তা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউরোপীয় দেশগুলো চাইলে নিজেদের অর্থায়নে অস্ত্র কিনে ইউক্রেনকে সরবরাহ করতে পারে। এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে একে অপরের ওপর হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে উভয় পক্ষের বিভিন্ন বক্তব্যে জানা গেছে।
জর্জিয়ায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক সহায়তা নীতির পরিবর্তিত অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র সহায়তা মূলত অর্থায়ন কাঠামোর পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোর অধিক অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান পরিবর্তন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব বণ্টনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
অন্যদিকে চীনে সফররত রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলো নতুন একটি সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বারবার পশ্চিমা সামরিক সহায়তাকে যুদ্ধ বিস্তারের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষই ভিন্ন ভিন্ন দাবি করেছে। ইউক্রেনীয় ও রুশ সূত্রের বরাত অনুযায়ী, গত একদিনে বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিকবার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দিনিপ্রোপেত্রভস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোররাত থেকে ওডেসা বন্দরসহ ইউক্রেনের অন্তত নয়টি স্থানে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, তিন শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করে এ হামলা পরিচালনা করা হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কিছু আবাসিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অবকাঠামোগত ক্ষতির ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় পক্ষ দাবি করেছে, তাদের প্রতিরোধমূলক অভিযানে রাশিয়ার পক্ষেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিয়েভের ভাষ্য অনুযায়ী, গত একদিনে রুশ বাহিনীর বহু সেনা নিহত হয়েছে এবং একাধিক আর্টিলারি ও রকেট সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় এক হাজার ৪০০টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে তারা। তবে এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পৃথক কোনো বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
রুশ বাহিনী দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলে সামরিক অভিযানের তীব্রতা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মস্কোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব অঞ্চলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ, পাশাপাশি রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিস্তার—সব মিলিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। একই সঙ্গে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ফলে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।