খেলাধূলা ডেস্ক
ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলে পুনরায় জায়গা নিশ্চিত করতে গিয়ে কঠিন সময় পার করছেন তারকা ফুটবলার নেইমার। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে তাকে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের পর্যবেক্ষণ।
ব্রাজিল দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার মতে, জাতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে এবং শারীরিক ও মানসিক উভয় দিক থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। মাঠে সংযম হারানোর ঘটনা বা আচরণগত দুর্বলতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস-এর হয়ে এক ম্যাচে নেইমারের আচরণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ এক পর্যায়ে তার প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে চাপের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় এ ধরনের আচরণ দলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া, এমন পরিস্থিতিতে ইনজুরির আশঙ্কাও বেড়ে যায়। অতীতে একাধিক চোটে ভোগা নেইমারের জন্য এটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হলে তাকে সুস্থতা ধরে রাখার পাশাপাশি মাঠে আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রদর্শন করতে হবে।
ম্যাচ শেষে সমর্থকদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন খেলোয়াড় হিসেবে তার কাছ থেকে আরও পরিমিত ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয় বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মত।
বিশ্লেষকদের মতে, নেইমারের প্রতিভা ও দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। তবে জাতীয় দলে টিকে থাকতে হলে ধারাবাহিকতা, মানসিক স্থিতিশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতার এই সময়ে এসব গুণাবলি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে নেইমারকে দ্রুত এসব বিষয়ে উন্নতি করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। অন্যথায় কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে তার জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।