খেলাধূলা ডেস্ক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ফলে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদকে। আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটি ছিল গোল ও নাটকীয়তায় ভরপুর, যেখানে শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় দুই দল। খেলার প্রথম মিনিটেই রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে যায়। বায়ার্ন গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর্দা গুলের ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। তবে এই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পঞ্চম মিনিটেই আলেকসান্দার পাভলোভিচের গোলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন মিউনিখ।
এরপর ম্যাচে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। ২৯তম মিনিটে দূরপাল্লার ফ্রি-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন আর্দা গুলের, ফলে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল। তবে প্রথমার্ধের শেষভাগে বায়ার্ন ম্যাচে ফেরে। ৩৮তম মিনিটে হ্যারি কেইনের গোল এবং ৪২তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের সমতাসূচক গোলের মাধ্যমে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতায় বিরতিতে যায় উভয় দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও শেষদিকে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে, ৮৬তম মিনিটে রিয়ালের এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়েন, ফলে দলটি ১০ জনের হয়ে পড়ে। এই লাল কার্ড ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং রিয়ালের রক্ষণভাগে চাপ বাড়িয়ে তোলে।
সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে শেষ মুহূর্তে আক্রমণের গতি বাড়ায় বায়ার্ন মিউনিখ। এরই ধারাবাহিকতায় লুইস দিয়াজ ও মাইকেল ওলিসে পরপর দুটি গোল করেন। এই গোলগুলোই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে এবং দুই লেগ মিলিয়ে বায়ার্নকে ৬-৪ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়।
এই জয়ের ফলে বায়ার্ন মিউনিখ সেমিফাইনালে উন্নীত হয়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। অন্যদিকে, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতায় দীর্ঘ সাফল্যের ইতিহাস থাকা রিয়াল মাদ্রিদের এবারের যাত্রা শেষ হলো কোয়ার্টার ফাইনালেই।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের শেষদিকে শৃঙ্খলাজনিত ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে খেলোয়াড়ের বহিষ্কার রিয়াল মাদ্রিদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অপরদিকে, বায়ার্ন মিউনিখ চাপের মধ্যে নিজেদের কৌশলগত স্থিরতা বজায় রেখে সুযোগ কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।