বাংলাদেশ ডেস্ক
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পর পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। বুধবার জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) থেকে সনদ অর্জন করা হয়েছে, যা বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক নিয়ম, বিধি-বিধান এবং পরিচালনাগত সক্ষমতা নিশ্চিত করে।
তিনি আরও বলেন, প্রশস্ত দেহের বা ওয়াইড-বডি বিমান নিরাপদে অবতরণ ও উড্ডয়নের সুবিধার্থে বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সমুদ্রের দিকে রানওয়ের দৈর্ঘ্য পূর্বের ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এর ফলে বড় আকারের বিমান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামগ্রিক কার্যক্ষমতা উন্নত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবনও নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের এই টার্মিনালে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও কমিশনিং পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত দিক যাচাই করা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে নিয়ে আসা জরুরি। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কক্সবাজার বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষম হলে দেশের পর্যটন খাত উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হবে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের শহর হিসেবে কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্ত্রী আরও জানান, অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হবে। এরপর বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।