বাংলাদেশ ডেস্ক
উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে দুর্নীতি ও দালাল চক্রের প্রভাব কমাতে সরকার ১১টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। এসব পদক্ষেপের মধ্যে ডিজিটাল নামজারি বাধ্যতামূলক করা, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু, হটলাইন সেবা সম্প্রসারণ এবং মাঠ প্রশাসনের জবাবদিহিতা জোরদারের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং নাগরিক হয়রানি কমাতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ভূমি সেবায় দালালদের হস্তক্ষেপ কমাতে শতভাগ ই-নামজারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে নামজারির জন্য আবেদন, যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদনের প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। আবেদনকারীরা এসএমএসের মাধ্যমে তাদের আবেদন সংক্রান্ত অগ্রগতি জানতে পারছেন। পাশাপাশি, নগদ লেনদেন বন্ধে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে সরাসরি সরকারি কোষাগারে কর পরিশোধ করতে পারছেন।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি বা অনিয়মে জড়িত থাকলে তাৎক্ষণিক শোকজ এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য ১৬১২২ নম্বর হটলাইন চালু রয়েছে, যা সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে। এই হটলাইনের মাধ্যমে ঘুষ দাবি বা সেবা সংক্রান্ত হয়রানির অভিযোগ সরাসরি মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভূমি রেকর্ড ও নকশা জালিয়াতি প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল সার্ভে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমির সঠিক পরিমাপ ও মানচিত্র তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রেকর্ড সংশোধনে মানবীয় হস্তক্ষেপ কমাবে এবং তথ্যের নির্ভুলতা বাড়াবে।
এছাড়া নাগরিকদের ঘরে বসে ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করতে অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খতিয়ান দেখা, আবেদন করা এবং ডাকযোগে পর্চা সংগ্রহ করা যাচ্ছে। কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল খতিয়ান চালুর ফলে তথ্য যাচাই আরও সহজ হয়েছে। পাশাপাশি, ভূমি অ্যাপ চালুর মাধ্যমে নাগরিকরা মোবাইল ফোনেই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে নাগরিক সেবা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কেন্দ্রে সরাসরি সেবা গ্রহণের পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। অনলাইন অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালুর ফলে নাগরিকরা সহজেই অভিযোগ জানাতে এবং তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।
তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং লিজ অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কার্যক্রমকেও পর্যায়ক্রমে সফটওয়্যারের আওতায় আনা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল রূপান্তর আরও শক্তিশালী হবে এবং অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।