1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডে বরাদ্দ বাড়ছে, এক বছরে সুবিধা পাবেন ৫০ লাখ নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারে অর্থমন্ত্রীর তাগিদ সমাজ সংস্কারে দেশপ্রেমিকদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর জাতীয়তাবাদে সব জাতি-গোষ্ঠীর সমান অধিকার নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সিগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে নেতাকর্মীদের অভ্যর্থনা আন্তর্জাতিক যৌথ অভিযানে আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা নিহত ব্রাজিল-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে উপদেষ্টা পর্যায়ে মাসিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হরমুজ প্রণালির খসড়া প্রস্তাবে চীনের তীব্র বিরোধিতা, ভেটোর আশঙ্কা ইসরায়েলে জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা হ্রাস: সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে বিরোধী জোট মে মাসে দেশে আসছে সাড়ে ৫ লাখ টন জ্বালানি তেল, মজুত পর্যাপ্ত

কুয়াকাটায় বেসরকারি উদ্যোগে বিমানবন্দর নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

রিপোর্টার
  • আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় বেসরকারি উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠান বিমান চলাচল বা ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ব্যয় করে এমন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না, যা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয় এবং যার ফলে জনগণের করের টাকার অপচয় হতে পারে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম কার্যদিবসে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

সংসদ অধিবেশনে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন কুয়াকাটায় একটি বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়ে সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, কুয়াকাটা বর্তমানে কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্রই নয়, বরং এটি দক্ষিণবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সেখানে ইতোমধ্যে একটি নৌবাহিনী ঘাঁটি, একটি সেনানিবাস এবং দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর ‘পায়রা বন্দর’ স্থাপিত হয়েছে। এই ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে কুয়াকাটায় দ্রুতগতিতে একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়াত সহজতর হবে এবং পর্যটন শিল্প আরও বিকশিত হবে। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা জানতে চান এই আইনপ্রণেতা।

এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতার দিকটি তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়টি সরাসরি অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কুয়াকাটায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হলেও, সেটি বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হবে তা আগে বিবেচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে বিমানের ফ্লাইট হয়ত পরিচালনা করা যাবে, কিন্তু সেটি যদি লোকসানের সম্মুখীন হয়, তবে জনগণের পকেট থেকেই সেই অর্থ যাবে। ফলে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সরকারের জন্য খুব একটা লাভজনক পদক্ষেপ হবে না।

তবে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়েছেন সংসদ নেতা। তিনি আশ্বাস দেন যে, কোনো বেসরকারি এভিয়েশন কোম্পানি যদি কুয়াকাটায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহী হয়, তবে সরকার তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রেও যথাযথ যাচাই-বাছাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির ওপর জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যেমন কোনো প্রকল্পে লোকসান করতে চায় না, তেমনি কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করে ব্যর্থ হোক বা তাদের প্রচেষ্টা বিফলে যাক—সেটিও সরকারের কাম্য নয়। তাই সব সিদ্ধান্তই হবে বাস্তবসম্মত ও যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে।

অর্থনীতিবিদ ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের এভিয়েশন খাতে সরকারের বাস্তবসম্মত ও সতর্ক অবস্থানেরই প্রতিফলন। অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ও পায়রা বন্দর কেন্দ্রিক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প এবং এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচও ব্যাপক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, বর্তমানে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কয়েকটি পর্যাপ্ত যাত্রী ও কার্গো স্বল্পতার কারণে বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে পারেনি। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট সংখ্যা কম হওয়ায় বিমানবন্দরগুলোর পরিচালন ব্যয় তোলাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই সরকার নতুন করে কোনো বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ সরাসরি বিনিয়োগের আগে এর অর্থনৈতিক উপযোগিতা নিয়ে সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে অবকাঠামো ও পর্যটনের পাশাপাশি শিক্ষা খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য হুমাম চৌধুরীর অপর একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের বেসরকারি স্কুলগুলোর পরিচালনা নীতি ও তদারকি নিয়ে সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং পরিচালনা পর্ষদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রায়শই বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে জানান, বেসরকারি স্কুলগুলোর সার্বিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা আছে। দেশের প্রতিটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে সরকারের প্রণীত এই নীতিমালার ভিত্তিতেই পরিচালিত হতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলো এই গাইডলাইন যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করে থাকে, যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

জাতীয় সংসদের এই প্রশ্নোত্তর পর্বটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছে। প্রথমত, বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে কেবল আবেগ বা স্থানীয় চাহিদার ওপর নির্ভর না করে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও সেবামূলক খাতে বেসরকারি উদ্যোগের প্রসার ঘটলেও সেখানে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। কুয়াকাটায় বিমানবন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত আগামী দিনে দেশের অন্যান্য মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026