জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ, খাল খনন ও পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমসহ একাধিক পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণকে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রাথমিকভাবে খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করা হবে। সরকার ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় গত ১৬ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খনন ও পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চলবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় মিলে মোট ১২০৪ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ১৫০০ কিলোমিটার খাল সংস্কার ও পুনঃখননের কাজ সম্পন্ন করবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগকে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নিয়ে ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এক কোটি ৫০ লাখ বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়েছে, যা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষা খাতে চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২৩৩৬টি কারিগরি এবং ৮২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তার ও অনলাইন শিক্ষাসুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে হাই-টেক ও সফটওয়্যার পার্কগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা ‘পেপাল’-এর কার্যক্রম চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নয়ন ও ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এ ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা থাকলেও ইতোমধ্যে ১২৯ জনকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে।
শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশাসনিক খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তরসমূহে শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত এসব পরিকল্পনা ও উদ্যোগ সরকারের উন্নয়ন কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ, তথ্যপ্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সমন্বিত অগ্রগতির লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।