বরিশাল — জেলা প্রতিনিধি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই অভিযানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ করা হয় এবং পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকার দুই প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স হাওলাদার স্টোর’ ও ‘সিকদার স্টোর’-এ তল্লাশি চালানো হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও উপস্থিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠান দুটি বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট এলাকা থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বাবুগঞ্জ উপজেলায় পরিবহন করত এবং পরবর্তীতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানকালে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল এবং ৬০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত জ্বালানি তেল সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন ও লাইসেন্স না থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তা অবৈধ মজুদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক কুদ্দুস হাওলাদার এবং সাইদুর রহমান শিকদারকে মোট ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। নির্বাহী হাকিম জানান, জ্বালানি তেলের মতো সংবেদনশীল পণ্যের অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি জনস্বার্থ ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় আইন অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জব্দকৃত জ্বালানি তেল পরবর্তীতে নিলামের মাধ্যমে স্থানীয় ট্রলার, ট্রাক্টর, স্পিডবোট ও আলফা চালকদের কাছে বিক্রি করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিলাম থেকে প্রাপ্ত মোট ৩ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা এবং অবৈধ মজুদ রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত ও পরিবহননির্ভর এলাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদা বেশি থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করে থাকে বলে প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে লাইসেন্সবিহীন জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।