আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের আহ্বান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের আচরণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন এবং সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় সিআইএ প্রধানের দায়িত্বে থাকা জন ব্রেনান এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই সংশোধনী এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণীত, যেখানে প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিক কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এ ধরনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
ব্রেনান দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কিছু সাম্প্রতিক বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরণ, বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে তার অবস্থান ও মন্তব্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ও নীতিগত অবস্থান সম্ভাব্য সংঘাত ও প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
সাক্ষাৎকারে জন ব্রেনান আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া তাকে ব্যক্তিগতভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি পরমাণু শক্তিধর দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানসিক স্থিতিশীলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইঙ্গিত করেন যে, এ ধরনের বিষয়ে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় উচ্চপর্যায়ের সাংবিধানিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।
ব্রেনান আরও মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা সামরিক ক্ষমতা ও পরমাণু অস্ত্র ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দায়িত্বশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার বা অস্থিতিশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট যদি দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা একসঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত অত্যন্ত জটিল এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তার নেতৃত্বের ধরন, বক্তব্য এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। তবে বর্তমান আলোচনায় একজন সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের প্রকাশ্য অবস্থান বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বক্তব্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তোলে এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা বাড়াতে পারে।
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২৫তম সংশোধনীর প্রয়োগ বাস্তবে অত্যন্ত বিরল এবং এটি কার্যকর করতে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের সমর্থন প্রয়োজন হয়। ফলে জন ব্রেনানের মন্তব্য রাজনৈতিক ও নীতিগত বিতর্কের অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও তা তাৎক্ষণিক কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয় না।
বর্তমানে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের ভূমিকা, নেতৃত্বের ধরন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন মতামত উঠে আসছে।