আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ চলতি সপ্তাহে চীন সফর করতে যাচ্ছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৪ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বেইজিংয়ে অবস্থান করবেন এবং শীর্ষ কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, সফরকালে সের্গেই লাভরভ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-এর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুসংহত করছে। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উভয় দেশ নীতি-সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ পাবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ সফর সম্পর্কে পৃথক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বেইজিং সফরের সময় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করবেন। উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়েও মতবিনিময় করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই প্রেক্ষাপটে চীন রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে উঠে আসে।
জ্বালানি, বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া পূর্বমুখী অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করে, যেখানে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক কূটনৈতিক মঞ্চে উভয় দেশ একাধিক বিষয়ে অভিন্ন বা কাছাকাছি অবস্থান গ্রহণ করে আসছে।
চলমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় ইস্যু হিসেবে রয়েছে। যুদ্ধের কারণে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে এবং তা আরও সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় লাভরভের এই সফরকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও বৈশ্বিক নিরাপত্তা আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অঞ্চলটিতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং ভূরাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলছে। এ প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বৈঠকগুলো কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয় এবং শক্তির ভারসাম্য নিয়েও ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
লাভরভের এই সফরকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠক শেষে দুই দেশ যৌথভাবে কিছু নীতি অবস্থান বা সহযোগিতার ক্ষেত্র ঘোষণা করতে পারে, যা চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করবে।