রাজনীতি ডেস্ক
নাটোরের গুরুদাসপুরে অর্ধশতাধিক যানবাহনের বহর নিয়ে শোডাউন কর্মসূচি আয়োজনের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিককে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় নীতিমালা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি সোমবার (১৩ এপ্রিল) এই সিদ্ধান্ত জানায়।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিটি সংগঠনের অনুমোদিত কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মসূচি ছিল না। জ্বালানি সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক যানবাহন ব্যবহার করে শোডাউন করাকে দলীয় নীতিমালা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাসুদ রানা প্রামাণিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জানায়, গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রামাণিকের কর্মকাণ্ড সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং দলীয় শৃঙ্খলাবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন বলে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলীয় নির্দেশনা ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে গুরুদাসপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে মাসুদ রানা প্রামাণিকের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক হাইয়েস ও প্রাইভেটকারের একটি বহর বের হয়। বহরটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চাঁচকৈড় বাজারে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় স্থানীয় সমর্থকদের অংশগ্রহণ ও স্লোগানে পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য মুখরিত হয়ে ওঠে।
ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট ও সরকারি পর্যায়ে সাশ্রয়ী ব্যবহারের নির্দেশনার প্রেক্ষাপটে এত সংখ্যক যানবাহনের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিষয়টি দলীয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এলে দ্রুত সাংগঠনিক তদন্ত শুরু হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বলেছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিমালার বাইরে গিয়ে কোনো ধরনের প্রদর্শনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও অনুমোদনবিহীন কর্মসূচি নিয়ে সংগঠনের কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্বের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।