রাজধানী ডেস্ক
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে রাজধানীর শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (পহেলা বৈশাখ) শাহবাগ মেট্রো স্টেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রো স্টেশন সারাদিন বন্ধ রাখা হবে।
মেট্রোরেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের উপপ্রকল্প পরিচালক (গণসংযোগ) মো. আহসান উল্লাহ শরিফী সোমবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পহেলা বৈশাখে রাজধানীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম হয়, যা যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে সাময়িকভাবে এসব স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল থেকেই চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ থেকে ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ শোভাযাত্রা বের করা হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ শোভাযাত্রা রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং এতে অংশ নেন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
একই সঙ্গে রমনা বটমূলে ছায়ানটের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভোর থেকেই রমনা পার্ক এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এ সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগমের চাপ নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মেট্রোরেল চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলো আংশিক বা পুরোদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে করে মেট্রোরেল ব্যবহারকারীদের বিকল্প স্টেশন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সাময়িক এই অসুবিধার জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, অন্যান্য স্টেশনগুলো স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী চালু থাকবে এবং ট্রেন চলাচলেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নগরবাসীর বড় একটি অংশ দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য মেট্রোরেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পরিবহন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশেষ দিনগুলোতে, যখন নির্দিষ্ট এলাকায় জনসমাগম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তখন সাময়িক এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও এ ধরনের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়।
উল্লেখ্য, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক উৎসব। এদিন রাজধানীসহ সারা দেশে নানা আয়োজনে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা এলাকা বরাবরের মতোই এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, যেখানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে।