রাজধানী ডেস্ক
বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপনকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. আহসান হাবীব পলাশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর রমনার বটমূলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপন দেশের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসব হওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকে। এ পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং উৎসবস্থলগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
র্যাব ডিজি জানান, রাজধানীর শাহবাগ, টিএসসি, হাতিরঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রমনা বটমূলসহ যেসব স্থানে নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরীক্ষণ চেকপোস্ট ও অবজারভেশন চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে, যাতে প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট (বিডিইউ) এবং ডগ স্কোয়াড নিয়মিতভাবে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। সারাদেশে নববর্ষ উপলক্ষে র্যাবের কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
র্যাবের মহাপরিচালক বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে মোতায়েনকৃত র্যাব সদস্যরা এ বিষয়ে কঠোর নজরদারিতে থাকবে।
তিনি উল্লেখ করেন, নববর্ষ উদযাপনের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই র্যাবের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
আহসান হাবীব পলাশ আরও বলেন, উৎসবকালীন সময়ে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও মাঠপর্যায়ের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই রাজধানীর রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসি এবং হাতিরঝিল এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। বিশেষ করে উৎসবস্থলে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল বজায় রাখার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উৎসব চলাকালীন সময় পর্যন্ত এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জোরদার করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপন সম্ভব হবে।