ধর্ম ডেস্ক
হজযাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাপনায় এবার টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা খরচ কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে চার্টার্ড ফ্লাইট ছাড়াই এ বছর হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চলতি বছর ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবে পরিবহন করা হবে। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে এবং ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত করতে টিকিটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হজ ফ্লাইট পরিচালনায় এবার কোনো চার্টার্ড ফ্লাইট ব্যবহার করা হবে না। পরিবর্তে নির্ধারিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে পুরো পরিবহন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
এর আগে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জানান, ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাতে শুরু হবে। তিনি বলেন, হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে।
সভায় আরও জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে রাজধানীর হাজী ক্যাম্প পরিদর্শন করতে পারেন। হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করাই এ পরিদর্শনের উদ্দেশ্য হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেও হজ ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়সূচিতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে হজযাত্রী পরিবহন কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ এজেন্সি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ২৬০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৩৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। অবশিষ্ট নিবন্ধন ও প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করা হচ্ছে।
হজ ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছরই বিমান ভাড়া, ফ্লাইট সূচি, যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা এবং সমন্বয়জনিত বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক যাত্রী একসঙ্গে পরিবহন করার কারণে বিমান চলাচল ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় হ্রাস ও সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে টিকিটের মূল্য কমানোর সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চার্টার্ড ফ্লাইট বাতিল করে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামো তৈরি করবে। এতে একদিকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিমান চলাচলে নির্ধারিত সময়সূচি আরও সুসংগঠিত রাখা যেতে পারে।
এদিকে হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি জোরদার করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।