বিশেষ প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শেষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রোটোকল সাময়িকভাবে শিথিল করে তিনি সাধারণ মুসল্লিদের কাছে যান, করমর্দন করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ আদায় শেষে ঈদগাহ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার পূর্বে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি সরাসরি মাঠে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সারিতে চলে যান এবং তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। আকস্মিক ও ব্যতিক্রমী এই মুহূর্তে ঈদগাহে উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়। বেশ কিছু সময় ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করে মাঠের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা বিনিময় ও জনসংযোগের সময় ঈদগাহ ময়দানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের কথা বিবেচনা করে নিরাপত্তা বলয় কিছুটা শিথিল করা হয়। উপস্থিত একাধিক মুসল্লি জানান, দেশের সরকারপ্রধানকে অত্যন্ত কাছ থেকে দেখা এবং তাঁর সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারা সাধারণ নাগরিকদের জন্য একটি বিশেষ ও আনন্দঘন অভিজ্ঞতা।
জাতীয় এই ঈদ জামাতে অংশ নেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিচারপতি, কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী মাঠে উপস্থিত সম্মানিত অতিথি ও সাধারণ নাগরিকদের সাথে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঈদের মতো একটি সর্বজনীন ধর্মীয় উৎসবে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন সাধারণ মানুষের কাছাকাছি চলে আসার ঘটনাটি একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা বহন করে। এটি সরকার ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা পালন করে এবং জনসম্পৃক্ততাকে আরও সুদৃঢ় করে। ঈদগাহ ময়দানে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসংযোগ উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করছেন উপস্থিত সাধারণ নাগরিকেরা।