1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার ভিশন ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অগ্রগতি না হলেও যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে মালয়েশিয়ায় শ্রম ও উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ: বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বিশেষ বিবেচনার অনুরোধ মুম্বাইয়ে ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যু দারোয়ানি টেক্সটাইল মিল তিন মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ, দরপত্র আহ্বান সম্পন্ন ভোজ্যতেলের দাম আপাতত অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত সরকারের যোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়নে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা চিফ হুইপের বক্তব্য: গণতন্ত্রে পারস্পরিক আস্থা ও সংসদীয় কার্যক্রমে সমন্বয়ের আহ্বান লালবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন মঞ্জুর ইসরায়েলি-মার্কিন হামলার পর ইরানের তেল খাত পুনরুদ্ধারে তৎপরতা, দুই মাসে ৮০ শতাংশ সক্ষমতা ফেরানোর লক্ষ্য

ইরাকে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবসানের অবসান, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত নিজার আমেদি

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘ প্রায় ১৫০ দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি বংশোদ্ভূত অভিজ্ঞ রাজনীতিক নিজার আমেদি। শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেন-এর পতনের পর ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, কুর্দি রাজনৈতিক দল প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন নিজার আমেদি। দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি মোট ২২৭টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদের পান মাত্র ১৫টি ভোট। এই ফলাফল ইরাকের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর সংসদ সদস্যদের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরাকের বিদ্যমান ক্ষমতা বণ্টন ব্যবস্থার আওতায় প্রেসিডেন্ট পদটি ঐতিহ্যগতভাবে কুর্দি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত। দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোতে ক্ষমতা ভাগাভাগির এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, যেখানে প্রেসিডেন্ট পদে কুর্দি, প্রধানমন্ত্রী পদে শিয়া এবং পার্লামেন্টের স্পিকার পদে সুন্নি প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। এই কাঠামো ২০০৩ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনে জয়লাভের পর পার্লামেন্টে দেওয়া প্রথম ভাষণে নিজার আমেদি ‘ইরাক ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন। তিনি দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের সব শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি ইরাকের ভূখণ্ডে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাগুলোর নিন্দা জানান এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি দীর্ঘদিন ধরে ইরাকের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি পূর্বে দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তার এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং কুর্দি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা তাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে রাখে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম জোট বা ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। তবে এই প্রক্রিয়াকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিয়া রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ শিয়া দলগুলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকি-কে পুনরায় এই পদে দেখতে আগ্রহী। তবে তার সম্ভাব্য মনোনয়নকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্নমত রয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি বিষয়টিকে জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় ইরাকের রাজনৈতিক অচলাবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলেও সরকার গঠন প্রক্রিয়া সহজ হবে না। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রভাবের সংঘাত দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি কার্যকর সরকার গঠনের পথ সুগম করা। তার নেতৃত্বে ইরাক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে পাবে কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026