রাজনীতি ডেস্ক
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র একটি আস্থার ক্ষেত্র, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দল একে অপরের প্রতি আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করে। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে হলে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সকল রাজনৈতিক পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব শুধু সংসদ অধিবেশনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনগণের মধ্যেও তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সংসদীয় আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নবনির্বাচিত সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যেখানে জনগণের স্বার্থে কাজ করা এবং সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভর্তুকি খাতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং জনসাধারণের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, অতীতে বড় অঙ্কের অর্থ দেশের বাইরে পাচার হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে সরকার অর্থ পাচার রোধ করে সেই সম্পদ দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের নীতি অনুসরণ করছে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তিনি কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক সংসদ সদস্য অধিবেশনে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে যাচাইয়ে সঠিক নয় বলে দাবি করা হয়। তিনি জানান, আগামী অধিবেশনে ওই বক্তব্য সংসদীয় কার্যবিধি অনুযায়ী সংশোধনের (এক্সপাঞ্জ) জন্য প্রস্তাব আনা হতে পারে। এ ধরনের তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সংসদীয় কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, সাম্প্রতিক অধিবেশনগুলোতে স্বল্প সময়ে একাধিক বিল ও অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও পাসের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিনের মধ্যে মোট ১১৭টি বিল পাস করা হয় এবং ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ১৬টি সংশোধনের জন্য রেখে বাকি ১১৭টি অনুমোদন দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ সংস্থার কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন।
অধিবেশন চলাকালে বিরোধী দলের ওয়াকআউট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু সংশোধনী প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা অধিবেশন থেকে বের হয়ে যান। তিনি এ ঘটনাকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, মতভিন্নতা থাকলেও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্যেই তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
এছাড়া তিনি জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক ঘটনাকে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের লক্ষ্যে একটি জাদুঘর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
চিফ হুইপের এসব বক্তব্যে সংসদীয় কার্যক্রম, অর্থনৈতিক নীতি, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।