অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, মালয়েশিয়ার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বাংলাদেশি কর্মীদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
রবিবার সচিবালয়ে মালয়েশিয়া সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফরকালে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে শ্রমবাজার, উচ্চশিক্ষা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ব্যয় কমানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ, অদক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে কম খরচে বেশি সংখ্যক কর্মী বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। এ বিষয়ে মালয়েশিয়া পক্ষও নীতিগতভাবে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো নিয়ে তারা অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবে এবং পরবর্তী সময়ে একটি সিদ্ধান্ত জানাবে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য পৃথক বা বিশেষ নিয়ম চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উচ্চশিক্ষা খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট স্বীকৃতি, পাঠ্যক্রম সমন্বয় এবং গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
তিনি বলেন, উভয় দেশ এমন একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে আগ্রহী, যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যৌথ গবেষণা, একাডেমিক সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও এ ধরনের সহযোগিতামূলক উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তিনি জানান।
সফরের সার্বিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, তিন দিনের সফরে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনায় অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও স্বচ্ছ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা ও শ্রমবাজার—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন সুযোগ সৃষ্টির জন্য ধারাবাহিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও আলোচনার অংশ ছিল। মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ককে কৌশলগত সহযোগিতায় উন্নীত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।