শিক্ষা ডেস্ক
জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজকে একটি সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন। পরে তা সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
এর আগে গত ১২ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর অধিভুক্ত সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, এই বিল পাসের মাধ্যমে তার একটি কাঠামোগত সমাধানের পথ উন্মুক্ত হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রস্তাবিত আইনের অধীনে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ ‘সংযুক্ত কলেজ’ হিসেবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় পরিচালিত হবে। তবে বিল অনুযায়ী, এসব কলেজের নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয়, অবকাঠামো এবং সম্পদের ওপর তাদের পূর্ণ অধিকার বহাল থাকবে। অর্থাৎ প্রশাসনিকভাবে তারা একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলেও তাদের ঐতিহ্য ও বিদ্যমান কাঠামো অক্ষুণ্ন থাকবে।
এই উদ্যোগের প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, রাজধানীর এসব কলেজ দীর্ঘদিন ধরে একটি বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থেকে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ফলে শিক্ষার্থী সংখ্যা, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, ফল প্রকাশে বিলম্ব এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো গঠনের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র ও কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বিলের বিধান অনুযায়ী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন করা হবে। এতে চ্যান্সেলর, ভাইস চ্যান্সেলর, সিনেট, সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিলসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক সংস্থা থাকবে। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সিনেট কর্তৃক প্রস্তাবিত প্যানেল থেকে ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ দেবেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, গবেষণা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নীতিনির্ধারণ ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এই আইন কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা দ্রুততর সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল পাবে এবং শিক্ষাবর্ষের জট কমে আসবে। একইসঙ্গে গবেষণা কার্যক্রমে গতি আসবে এবং শিক্ষকদের জন্যও একটি সমন্বিত একাডেমিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
তবে নতুন এই কাঠামো বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে, বিভিন্ন কলেজের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা এবং কেন্দ্রীয় নীতিমালার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, যথাযথ পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় কাঠামো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।