আইন আদালত ডেস্ক
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে স্থানীয় সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় ও পরবর্তী সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে কাজ করছে। শুক্রবার সকালে কোটচাঁদপুর পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক ও বিচারিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। তার মতে, ওই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশার ধারাবাহিকতায় ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণে সরকার নীতিগতভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ইতোমধ্যে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
সাম্প্রতিক একটি হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে সংক্ষুব্ধ পক্ষের উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে, যা আইনের স্বাভাবিক ধারা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে বিবেচিত হবে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আপিল ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে এবং আইনমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হাইকোর্ট একটি রায় প্রদান করেছে। তবে সেই রায় এখনো চূড়ান্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে আপিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আপিল নিষ্পত্তির পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রশাসনিক স্বতন্ত্রতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার সংবেদনশীল অবস্থানে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অগ্রগতি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় পর্যায়ের সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার সমসাময়িক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন বলে জানা যায়। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, পেশাজীবী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।