আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে নিহত সেনাদের মরদেহ বিনিময়ের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন রাশিয়ার ৪১ জন সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। এর বিপরীতে রাশিয়া কিয়েভের এক হাজার সেনার মরদেহ ফেরত দিয়েছে। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি জানানো হয়েছিল যে, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে নিহত সেনাদের মরদেহ ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে ধাপে ধাপে দুই দেশের মধ্যে এই বিনিময় কার্যক্রম চালু রয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত রাশিয়া ইউক্রেনের কাছে প্রায় ১২ হাজার সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে। অপরদিকে ইউক্রেনের কাছ থেকে রাশিয়া প্রায় ২০০ সেনার মরদেহ গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। নতুন করে আরও এক হাজার সেনার মরদেহ ফেরত পাওয়ার তথ্য রুশ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের তীব্রতা সত্ত্বেও নিহতদের মরদেহ বিনিময় একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত সেনাদের যথাযথভাবে দাফন বা সৎকার নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিবারকে তথ্য প্রদান করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অংশ হিসেবেও বিবেচিত হয়। এ ধরনের বিনিময় প্রক্রিয়া দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত পর্যায়ের সমন্বয় ও যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়, যা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতেও কিছু মানবিক মানদণ্ড বজায় রাখার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে।
এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনের বাহিনী শতাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার আঞ্চলিক সংকট প্রতিক্রিয়া কেন্দ্র। এসব হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংকট প্রতিক্রিয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বেলগোরোদ অঞ্চলের গ্রাইভোরনস্কি জেলায় গ্রাইভোরন শহরসহ গ্লোতোভো, গোলভচিনো, গোরা-পোদোল, দুনাইকা, জামোস্তিয়ে এবং মোশচেনোয় গ্রামে মোট ৩৬টি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে ১৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার ফলে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যদিও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সীমান্তবর্তী রুশ অঞ্চলে ড্রোন হামলার ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বেলগোরোদ অঞ্চলটি ইউক্রেন সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি প্রায়ই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এ ধরনের হামলা সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, একদিকে যেমন সংঘাতের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে মানবিক দিক বিবেচনায় মরদেহ বিনিময়ের মতো কার্যক্রমও চলছে। এতে বোঝা যায়, যুদ্ধের মাঝেও কিছু ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালা অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ড্রোন হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।