ক্রীড়া প্রতিবেদক
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে সেমিফাইনালের পথে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ম্যাচটি কাতালানদের জন্য কঠিন পরিণতি নিয়ে এসেছে, যেখানে প্রতিপক্ষ কম সুযোগের মধ্যে কার্যকর আক্রমণ পরিচালনা করে বিজয় নিশ্চিত করেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। ১৮ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ড বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। এসময় সাবেক বার্সা ফরোয়ার্ড আঁতোয়ান গ্রিয়েজমানও কয়েকবার বার্সার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছান।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচের গতিপ্রকৃতি পাল্টে যায়। ভিএআর যাচাইয়ের পর বার্সার তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখে মাঠ ত্যাগ করেন। এই পরিস্থিতি কাতালানদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। লাল কার্ডের পরকালে প্রাপ্ত ফ্রি-কিক থেকে হুলিয়ান আলভারেজ অ্যাতলেতিকোর হয়ে প্রথম গোলটি করেন এবং দলকে এগিয়ে নিয়ে যান।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে বার্সেলোনা আক্রমণ চালিয়ে গেলেও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বিপরীতে, ৭০ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামা আলেক্সান্ডার সলরথ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, যা কার্যত ম্যাচের ফলাফলের দিক নির্ধারণ করে দেয়। পরিসংখ্যানে এগিয়েও বার্সেলোনা গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ হয়। অন্যদিকে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ সীমিত সুযোগের মধ্যে দক্ষভাবে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পথে বড় সুবিধা পেয়েছে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। দ্বিতীয় লেগে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বার্সেলোনাকে শক্তিশালী কৌশল ও কার্যকর আক্রমণ দেখাতে হবে। বিশেষ করে numerical অসুবিধার মোকাবেলা এবং প্রতিপক্ষের ফ্রি-কিক ও কৌশলগত সুবিধা সামলানো হবে তাদের চ্যালেঞ্জ।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বার্সেলোনা ৬৫ শতাংশ বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বজায় রেখেও গোল করতে পারেনি। ম্যাচে মোট শটের সংখ্যা অ্যাতলেতিকোর তুলনায় বেশি হলেও কার্যকরতায় এগিয়েছে প্রতিপক্ষ। এই ফলাফলের প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় লেগে কাতালানদের জন্য জয় সহজ হবে না এবং তারা সেমিফাইনালের সম্ভাবনা ধরে রাখতে একটি চ্যালেঞ্জিং লড়াইয়ের মুখোমুখি থাকবে।