আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাতে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা ইরানে প্রবেশ করে অভিযানের কাজ শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, অভিযানের মধ্যে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের খোঁজ এখনও চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর সাবেক প্যারারেস্কিউ কমান্ডারের বরাতে জানা গেছে, নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে বিশেষজ্ঞ যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। তিনি জানান, উদ্ধার লক্ষ্য এমন কোনো এলাকায় থাকলে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারবে না, সেক্ষেত্রে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা স্থলপথে অভিযান পরিচালনা করবে।
ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু সদস্যের সন্ধানে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি মার্কিন পাইলটকে উদ্ধার করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
মার্কিন ও ইরানি সূত্রের তথ্যে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইরানে অভিযান এবং উদ্ধার কার্যক্রমে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের উদ্ধার অভিযান দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সামরিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি, নিখোঁজ ক্রুদের নিরাপদে উদ্ধার করতে যথাযথ পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য। মার্কিন বাহিনী ও ইরান উভয়ই এই অভিযানকে ঘিরে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখছে এবং পরিস্থিতি মনিটর করছে।
এই পরিস্থিতিতে দুটি দেশের মধ্যে তৎপরতার মাত্রা বাড়ার পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন।