সারাদেশ ডেস্ক
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে সাময়িক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে সতর্কতাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (০৪ মার্চ) দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ একটি সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের কারণে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা বাসিন্দাদের জানানো হবে। সতর্কতার প্রাথমিক কারণ বা ঝুঁকির ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা একদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অন্তত পাঁচটি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। ইসলামিক রেভুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, খোমেইন ও জানজান অঞ্চলের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ইসফাহানে দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বুশেহরে একটি হারমেস ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসির বরাতে বলা হয়েছে, মধ্য ইরানে একটি উন্নত যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে এবং ওই বিমানের পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের আকাশে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট II (ওয়ার্থগ) যুদ্ধবিমান গুলি করে ধ্বংস করা হয়েছে, যা পরে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়। ইরানের সামরিক সূত্র এই ঘটনাগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে সাময়িক সতর্কতার মধ্যে স্থানীয় অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্য ও সামুদ্রিক চলাচলের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলায় অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
সৌদি আরবের সতর্কতা প্রত্যাহারের পরও আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা বলেন, পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয় এবং যে কোনো সময় নতুন ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনী জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা চলমান থাকায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি মনিটর করছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, কোনো তাত্ক্ষণিক সংঘর্ষ এড়িয়ে গেলেও ভবিষ্যতে উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোটপেক্ষা, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে সতর্কতা এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথেষ্ট সংবেদনশীল ও অস্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে।