আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের তেল দখল করার সম্ভাবনা নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যা চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র কিছু অতিরিক্ত সময় পেলে সহজেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে তেল নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হবে, যা থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক লাভ সম্ভব।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচিত। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে এই প্রণালির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইরান কার্যত এই জলপথে প্রভাব বিস্তার করছে, যার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বৈশ্বিক তেলবাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সামরিক তৎপরতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় নিরাপদ ও সচল রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সামরিক বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন। তাদের মতে, সংকীর্ণ এই জলপথে নৌবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনার কারণে। ফলে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
ট্রাম্পের ‘ইরানের তেল দখল’ সংক্রান্ত মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। জাতিসংঘের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের উপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা সেই দেশের জনগণ ও সরকারের অধীনেই থাকে। এই নীতির আলোকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্পদ দখলের দাবি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
এর আগে ইরাক ও ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তার এই মন্তব্য কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পরও ইরানের শাসনব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং দেশটি এখনো হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় রেখেছে। একই সময়ে ইরান বিভিন্ন স্থানে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে জানা গেছে। এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
এছাড়া ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলক্ষেত্রে সম্ভাব্য হামলার হুমকিও দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।