স্বাস্থ্য ডেস্ক
দেশে হাম প্রতিরোধে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সের সব শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। এছাড়া, পূর্বে টিকা নেওয়া শিশুরাও পুনরায় টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবেশ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন শনিবার (৫ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে যেসব শিশু হাসপাতালে ভর্তি বা অসুস্থ রয়েছে, তাদের ভিটামিন-এ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, রোববার থেকে দেশের ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যেখানে হামের প্রকোপ বেশি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সব শিশু, বিশেষ করে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইনের পর জন্ম নেওয়া শিশুরা যাতে নিশ্চিতভাবে টিকা পান। মন্ত্রী আরও বলেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থেকে যারা আগে মিজেলস্ টিকা পেয়েছে, তাদের পুনরায় টিকা দেওয়া হলে কোনো ক্ষতি হবে না এবং এটি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির আওতায় রোববার থেকে টিকা প্রদানের জন্য নির্বাচিত ৩০টি উপজেলা হলো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম দেশের শিশুদের হাম প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, এটি এককভাবে সীমিত উপজেলা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের সব ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের শিশুদের মধ্যে হামের বিস্তার রোধ করা এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সূচক উন্নত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুধুমাত্র টিকা প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর সঙ্গে শিশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, ভিটামিন-এ সরবরাহ এবং প্রয়োজনমত হাসপাতাল ভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাও একত্রে কার্যকর করা হবে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ঝুঁকি কমবে এবং জাতীয়ভাবে হাম প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়িত হবে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে হাম সংক্রমণের হার বেশি, সেসব উপজেলায় দ্রুত টিকাদান সম্পন্ন করা হবে। মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।