রাজনীতি ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতির প্রভাবে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের মজুদ সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হয়েছে। দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনায় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধির প্রস্তাব আলোচনার বিষয় হতে পারে। এতে সরকারি খাতের কর্মসূচি পরিচালনায় জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কমানো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাপ হ্রাস করা মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
একই বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সীমিত রাখার মাধ্যমে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার আলোচনার বিষয় হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসের প্রবর্তন শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া এই সংকটের কারণে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো মজুদ পর্যবেক্ষণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহের অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি খাতের কার্যক্রমে প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।
সূত্রের মতে, মন্ত্রিপরিষদের আজকের (২ এপ্রিল) বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা সরকারি কর্মসূচি এবং শিক্ষাক্ষেত্রে পরিচালনার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিকল্পিত এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশব্যাপী জ্বালানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার দক্ষতার সাথে পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।