বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেছেন দেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোর সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’-এর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান গণমাধ্যম পরিস্থিতি, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বিকাশ, স্বাধীন তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং সংবাদপত্র শিল্পের বিভিন্ন নান্দনিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অন্যদিকে সম্পাদক পরিষদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির এবং সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ। এছাড়াও প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই বৈঠকে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সুসংহত করার বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন বা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট যেকোনো আইনি জটিলতা যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় হতে পারে, সেগুলো সংস্কারের বিষয়ে সম্পাদকগণ তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রেক্ষাপটে নিউজপ্রিন্টের আমদানিশুল্ক হ্রাস ও সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ নিশ্চিতে সরকারি বিজ্ঞাপনের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পাদকদের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বৈঠকের মূল পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সম্মানে এক মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই মধ্যাহ্নভোজ পর্বে রাষ্ট্রীয় ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় আরও বেগবান হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সমন্বয় করেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের শীর্ষ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সংবাদপত্রের নীতিনির্ধারকদের এই ধরনের খোলামেলা ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এটি সরকারের সঙ্গে দেশের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত গণমাধ্যমের মধ্যকার পেশাদারিত্বের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় সংকটে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পথ সুগম করবে।