নিজস্ব প্রতিবেদক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট (ফ্রি ওয়াই-ফাই) সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ জন যাত্রী কোনো প্রকার মাশুল ছাড়াই এই ডিজিটাল সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। গত ২৬ এপ্রিল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই সেবাটি সফল পর্যবেক্ষণ শেষে রোববার (১৭ মে) দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
রোববার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘সবার জন্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট’ প্রতিশ্রুতির আলোকে বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রীদের জন্য এই উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরকে আধুনিকায়নের এই ধারাবাহিকতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনালও চালুর ব্যাপারে সরকার আশাবাদী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই উদ্যোগের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, একসঙ্গে ৩৭ হাজারের বেশি যাত্রী সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রেখে এই ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে সক্ষম হবেন, যা দেশের এভিয়েশন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে এই ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১, টার্মিনাল-২, অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকাসহ প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশই এই আধুনিক সেবার আওতায় আনা হয়েছে। দেশের প্রধান এই প্রবেশদ্বারে আগত দেশি-বিদেশি যাত্রীদের যোগাযোগের সুবিধার্থে এবং বিমানবন্দরকে স্মার্ট প্রযুক্তিবান্ধব করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কারিগরি অবকাঠামোর বিষয়ে জানা যায়, এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরজুড়ে ২৫০টি আধুনিক অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শক্তিশালী ডেটা সংযোগ নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল ফাইবার ও ইথারনেট কেবল এবং ৩৭টি অ্যাক্সেস সুইচ ব্যবহার করে মূল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কারিগরি সক্ষমতা অনুযায়ী, প্রতিটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট একই সময়ে সর্বোচ্চ ১৫০ জন ব্যবহারকারীকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদানে সক্ষম। সম্পূর্ণ সিস্টেমটি সর্বোচ্চ ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের দ্রুতগতির ডেটা ব্রাউজিং ও ডাউনলোডের সুবিধা দেবে।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল শুরু হওয়া পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের পর থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পূর্ব পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার যাত্রী এই ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা গ্রহণ করেছেন। এই সময়ে যাত্রীরা মোট ২ দশমিক ৩ টেরাবাইট ডেটা ব্যবহার করেছেন, যা নেটওয়ার্কের প্রাথমিক কার্যকারিতা ও সফলতার প্রমাণ দেয়। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর ফলে ট্রানজিট যাত্রী এবং আন্তর্জাতিক রুটের ব্যবহারকারীরা অত্যন্ত সহজে তাদের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করতে পারবেন, যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।