আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক হোয়াইট হাউস কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইয়ারকে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘর্ষে সম্মুখ সারিতে পাঠানো উচিত।
ব্যাননের এ মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “নেতানিয়াহুর ছেলে মিয়ামিতে রয়েছে। তাকে দ্রুত বিতাড়িত করুন এবং ইসরায়েলে ফেরত পাঠিয়ে যুদ্ধের প্রথম সারিতে নামিয়ে দিন।”
তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ব্যানন আরও বলেন, “যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ডিএইচএস কোথায় থাকে? ইয়ারকে সরাসরি আইডিএফে যোগদান করানো উচিত।” তিনি একই সঙ্গে কাতার ও সৌদি আরবের রাজপুত্রদেরও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। ব্যানন দাবি করেন, লন্ডনের ক্যাসিনো ও যৌনবাণিজ্যিক স্থল থেকে তাদের বিতাড়িত করে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা উচিত।
এই বিষয়ে ব্যানন পূর্বেও মন্তব্য করেছেন। তার ‘ওয়ার রুম’ পডকাস্টে তিনি বলেছেন, যেকোনো স্থল অভিযানের প্রথম ঢেউয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের অভিজাত এবং তাদের সন্তানদের অবস্থান থাকা উচিত। তিনি বলেন, “রাজপরিবারগুলোর সন্তানদের ইউনিফর্ম পরিয়ে তাদের স্পেশাল ফোর্সে সংযুক্ত করা যায় কিনা তা দেখা দরকার।”
ব্যাননের এ মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকে ঘিরে সমালোচনামূলক দিকনির্দেশনা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “ইসরায়েল, আরব দেশ এবং ইউরোপীয়রা যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে, আর আমরা সেখানে সৈন্য পাঠাচ্ছি। সামরিক অভিযানে বিজয় নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিকল্প ও আলোচনার পথ খোলা থাকা প্রয়োজন।”
এর পাশাপাশি ট্রাম্প পরিবারের একমাত্র কিশোর সন্তান ব্যারন ট্রাম্পকেও সামরিক অভিযানে পাঠানোর দাবি উঠেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ‘DraftBarronTrump.com’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। সেখানে ব্যারনের সাহসিকতা নিয়ে ভুয়া উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানদের সামরিক অভিযানে পাঠানোর বিষয়টি নতুন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সৈন্যদলে নাম লেখানোর নিয়ম (‘সিলেক্টিভ সার্ভিস’) রয়েছে। তবে ১৯৫৩ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে কোনো ড্রাফট বা বাধ্যতামূলক নিয়োগ করা হয়নি। এমন কোনো উদ্যোগ নেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের সম্মিলিত অনুমোদন প্রয়োজন।
ব্যাননের মন্তব্য এবং ট্রাম্প পরিবারের সন্তানদের সামরিক অভিযানে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্ক ও সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি কূটনৈতিক সম্পর্ক, যুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে, যা ভবিষ্যতে মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্য নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে।