নিজস্ব প্রতিবেদক
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য এবং কর বৃদ্ধির প্রস্তাবগুলো সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রাক-বাজেট সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশ্বাস দেন। তামাকের ব্যবহারজনিত মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে সেমিনারে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আসন্ন বাজেটে ক্ষতিকর ধূমপান ও জর্দা-গুলের ওপর কার্যকর ও বাড়তি কর আরোপের জোর দাবি জানান।
সেমিনারে বক্তারা দেশে তামাকের সহজলভ্যতা কমানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে কর কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এই লক্ষ্যে সেমিনারে তামাক পণ্যের ওপর একটি সুনির্দিষ্ট ট্যাক্স কাঠামোর খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়, যা জনস্বাস্থ্য ও সরকারের রাজস্ব নীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
উপস্থাপিত প্রস্তাবনায়, ২০ শলাকা বিশিষ্ট বিড়ির খুচরা দাম ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি ২ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা এবং গুলের মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে এসব ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের ওপর ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করার ব্যাপারে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান বাজারে এসব ক্ষতিকর পণ্যের মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় নিম্ন আয়ের মানুষ এবং তরুণদের মধ্যে এর ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ক্ষতিকর তামাক পণ্যের ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তামাক ও মাদকের পৃষ্ঠপোষকদের রুখতে কেবল প্রশাসনিক শক্তি যথেষ্ট নয়, এর জন্য ব্যাপক সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করার পাশাপাশি এর প্রাপ্তি ও বিপণন সংকুচিত করার ক্ষেত্রে সামাজিক আন্দোলনের বিকল্প নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তামাক খাতের বিদ্যমান কর কাঠামো আধুনিকায়ন ও সংস্কার করা হলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে উচ্চ কর আরোপের ফলে তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হ্রাস পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের স্বাস্থ্য খাতের ওপর চিকিৎসার ব্যয়ভার ও চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। জনস্বার্থ রক্ষা ও তরুণ সমাজকে তামাকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।