আইন আদালত ডেস্ক
কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে আরও চার আসামিকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হত্যা মামলার পাশাপাশি পৃথক অস্ত্র আইনের মামলায়ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় মামলার ১৮ জন আসামির মধ্যে ১২ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ছয়জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় ডাকাত প্রতিরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালীন সময় কর্তব্যরত অবস্থায় লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন ডাকাত দলের সদস্যদের হাতে গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। মামলাটি দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-তর্ক এবং ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আনা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন আসামিকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে, যা অনাদায়ে তাদের আরও অতিরিক্ত মেয়াদের সাজা ভোগ করতে হবে। ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র বহনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার পরপরই উপস্থিত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তায় সাজা পরোয়ানা মূলে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আইনজীবীরা জানান, এই রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিষয়টি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর কর্মকর্তার ওপর এমন কাপুরুষোচিত হামলা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল। এই দ্রুত বিচার ও রায় প্রদানের ফলে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।