বাংলাদেশ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
বুধবার (২০ মে) সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে যেসব বিমানবন্দর থেকে যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা বেশি এবং যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তর করা হবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সৈয়দপুর বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করছে। এই বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিকীকরণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। তিনি স্থানীয় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধাপে ধাপে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হবে।
সৈয়দপুর বিমানবন্দর পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহিন আকতার সাহিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু এবং যুবদলের আহ্বায়ক তারেক আজিজিসহ নীলফামারী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী সড়কপথে ঠাকুরগাঁও জেলার উদ্দেশে রওনা হন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার পরিকল্পনাটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশি দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর হবে। বিশেষ করে ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’ সংলগ্ন অঞ্চলের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপিত হলে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। আঞ্চলিক সংযোগ (Regional Connectivity) বৃদ্ধির মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।