বিনোদন ডেস্ক
ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় পা রাখার পরই দর্শকের মন জয় করেছেন সাদনিমা বিনতে নোমানা। ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘রাক্ষস’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ছবিটি ঈদের দিন থেকে সিনেমাপ্রেমী ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সাদনিমা চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা এবং নিজের পেশাগত লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।
সাদনিমা গত বছর থেকে অভিনয় শুরু করার পর থেকেই একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছিলেন। তবে তিনি প্রথাগত নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের পরিবর্তে এমন কোনো চরিত্রের অপেক্ষায় ছিলেন যা ছবির গল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, “ঠিক করেছিলাম নায়িকা নয়—এমন কোনো চরিত্র করব যেটিকে ঘিরে ছবির গল্প এগোবে। চরিত্র ছোট হলেও যেন গুরুত্বটা পুরো ছবিতে থাকে। আমার সেই স্বপ্ন সত্যি করেছে ‘রাক্ষস’। প্রথম যখন ছবিটির প্রস্তাব পাই, গল্প শুনে তখনই রাজি হয়েছি।”
ছবির পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় এর আগে ‘বরবাদ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। নায়ক হিসেবে ছিলেন সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা সিয়াম আহমেদ। সাদনিমা বলেন, “এমন একটি অভিজ্ঞ ইউনিটের সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার জন্য বড় সুযোগ ছিল।”
সাদনিমা জানান, সাধারণত সবাই পর্দায় নায়িকা হিসেবেই দেখা দিতে চান। কিন্তু তিনি বাণিজ্যিক সিনেমার প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাণিজ্যিক সিনেমাগুলোতে নায়িকাদের মূলত নাচ-গান ও রোমান্টিক দৃশ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। আমি প্রথম থেকেই নায়িকা হতে চাইনি, বরং একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। ছবির দৈর্ঘ্য ছোট হলেও দর্শক যেন চরিত্রটিকে মনে রাখে—আমি এমন কাজ করতে চাই।”
ঈদের পর থেকে সাদনিমা একের পর এক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় অভিভূত। তিনি আগামীতেও চ্যালেঞ্জিং ও গুণগত চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিতে চান। প্রথাগত রোমান্টিক চরিত্রের বাইরে নিজেকে শক্তিশালী পারফর্মার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই এখন তার মূল লক্ষ্য।
ছবির সাফল্য এবং অভিনয়ের প্রশংসা সাদনিমার পেশাগত যাত্রায় নতুন ধারা সূচনা করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও কঠোর পরিশ্রম এবং নতুন ধরনের চরিত্রের অন্বেষণে প্রেরণা জোগাচ্ছে। চলচ্চিত্র প্রেমীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে তিনি আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে দৃশ্যমান হবেন, যা তাকে প্রতিভাশালী অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।