অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জানিয়েছে, ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে, ফলে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দামের বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের ধারা বিবেচনা করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি মঙ্গলবার বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে, গত ২৮ মার্চ দুদফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। একই সময়ে ২১, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও যথাক্রমে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছিল।
নতুন বৃদ্ধি অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রুপার বাজারেও সামঞ্জস্য রেখে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়াও, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৩৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় বাজারে সোনার দামের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামের ওঠানামা এবং দেশের মুদ্রা স্থিতিশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এর ফলে ক্রেতা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বর্ণ ও রুপা কেনাবেচার খরচ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।
সোনার দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিবেচনা করলে, আগামী সপ্তাহগুলোতেও বাজারে ছোটখাটো ওঠানামার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজুসের নিয়মিত দাম পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।