আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দোহা সফরে কাতারের আমিরের কাছে বাংলাদেশের সংহতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার নিয়ে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে সফররত এই উপদেষ্টা কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির উদ্দেশে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর চিঠি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে কাতারের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে কাতারে অবস্থানরত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ কাতারের পাশে থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে কাতারের আমিরের সহায়তার বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়।
দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে শ্রমবাজার, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জনশক্তি উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে শান্তি, সংলাপ এবং মানবিক কূটনীতি প্রসারে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সফরের অংশ হিসেবে কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তিনি সাম্প্রতিক পারিবারিক শোকের ঘটনায় সমবেদনা জানান এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মপরিবেশ, অধিকার ও কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমশক্তি। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন, যারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। ফলে শ্রমিকদের সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়।
সফরকালে উপদেষ্টা দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি সেবা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার পাশাপাশি নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাত এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনা হতে পারে।
দোহা সফর শেষে উপদেষ্টা উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ সফর করবেন বলে জানা গেছে। এই ধারাবাহিক সফরের লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।