অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে আমদানিকৃত স্বর্ণের ক্রমাগত ওঠানামার প্রেক্ষাপটে ২৮ মার্চ বিকেলে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এই মূল্যে আজ সোমবার দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয় করতে হবে।
বাজুসের সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যের তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা।
বাজারে স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকে। তবে গয়নার ডিজাইন এবং মান অনুযায়ী মজুরির পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।
চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশের স্বর্ণবাজারে মোট ৪৯ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এ সময়ে ২৮ দফায় দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ২১ দফায় দাম কমানো হয়েছে। এই সমন্বয় মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর এবং আমদানি খরচের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের দাম ওঠানামা দেশের সোনার বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। দাম বৃদ্ধি হলে গহনার বাজারে চাহিদা সাময়িকভাবে কমতে পারে, আবার দাম কমলে ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা বাজার এবং আন্তর্জাতিক স্বর্ণ দরও দেশের স্বর্ণমূল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় প্রায়শই বাজারের আস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দরভিত্তিক হওয়ায়, বাজুস নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দামের সমন্বয় করে থাকে। বিশেষ করে উৎসব বা শादির মৌসুমে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।
বর্তমান দামের সমন্বয় দেশের সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি গহনার ব্যবসায়ীদের জন্যও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। সরকারের নির্ধারিত ভ্যাট এবং মজুরি ব্যবস্থা স্বর্ণবাজারে ন্যায্যতা নিশ্চিত করে।
এভাবে দেশে স্বর্ণের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক দর, আমদানি খরচ এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকে।